রবি শাস্ত্রীর অধীনে ভারতের উন্নতি হচ্ছে ঠিকই। কিন্তু এরপরও দ্রাবিড়কে কোচ হতে কোনো পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হবে না বলছেন আগারকার, ‘আমার মনে হয় রাহুলের কোনো অডিশনের প্রয়োজন হবে না। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে হেরে যাওয়া ছাড়া রবি শাস্ত্রী কোনো ভুল কিছু করেনি। তবে রাহুলের অধীনে অনূর্ধ্ব–১৯ দলও লাভবান হচ্ছে জাতীয় ক্রিকেট একাডেমিতে। রাজ্য দলগুলোও ওকে বেশ সহযোগিতায় করছে।’

ভিভিএস লক্ষ্মণ বলছেন, দ্রাবিড়ের পাকাপাকিভাবে ভারতীয় দলের কোচ হতে শুধু সময়ের অপেক্ষা। অনূর্ধ্ব–১৯ দলের জন্য রাহুলের অবদান বলতে গেলে অনস্বীকার্য। বলা যায়, ভারতের এখনকার দলের যে দারুণ পাইপলাইন, এত এত খেলোয়াড়ের প্রতিভাকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের জন্য উপযোগী করতে দ্রাবিড়ের ভূমিকা ছিল অসাধারণ।

ভিভিএস লক্ষ্মণ।

ভিভিএস লক্ষ্মণ। 
ফাইল ছবি

২০১৭ সালে চ্যাম্পিয়নস ট্রফির ফাইনালে পাকিস্তানের কাছে ভারতের হারের পর অনিল কুম্বলের বদলে ভারতের কোচ হয়ে আসেন রবি শাস্ত্রী। এরপর রবি শাস্ত্রীর সময়ে ভারত অস্ট্রেলিয়া থেকে দুবার টেস্ট সিরিজ জিতেছে। কিন্তু শাস্ত্রী কোনো আইসিসি ট্রফি এনে দিতে পারেননি ভারতকে।

শাস্ত্রী কোচ হিসেবে আসার অনেক আগেই জুনিয়রদের নিয়ে দ্রাবিড়ের অনুশীলন চলছে। সৌরভ গাঙ্গুলী, শচীন টেন্ডুলকর ও ভিভিএস লক্ষ্মণের বিশেষজ্ঞ প্যানেল বহু আগেই ভারতীয় দলের কোচ করতে চেয়েছিল দ্রাবিড়কে। কিন্তু তখন বিদেশে যেতে ততটা আগ্রহী ছিলেন না দ্রাবিড়। তবে সেই সমস্যা নেই এখন।

মেয়েদের জাতীয় দলের সাবেক কোচ ডব্লিউ ভি রমণ বলেছেন, ‘রাহুল কবে কোচ হবে, সেই সময় আমি বলতে পারব না। হয়তো ভবিষ্যতে কোনো এক সময়ে সে কোচ হবে। আমি তো আর ভবিষ্যদ্বাণী করতে পারি না, কিন্তু এ নিয়ে চার-পাঁচ বছর ধরে আলোচনা চলছে। ওর যখন নিজেকে প্রস্তুত মনে হবে, তখনই কোচ হতে পারে।’

দ্রাবিড়ের যেন জহুরির চোখ। রমণের অন্তত তেমনই মনে হয়েছে, ‘সে খেলোয়াড়দের প্রতিভা সম্পর্কে তাদের সচেতন করতে পারে। এবং তাদের সেই প্রতিভাকে সবচেয়ে ভালোভাবে কাজে লাগাতেও সহায়তা করতে পারে। যেহেতু সে তিন-চার বছর ধরে এই ছেলেদের বেশির ভাগের সঙ্গেই কাজ করেছে, ও আরও দুবছর নিয়মিত থাকলে তাদের আরও উন্নতি করা আরও সহজ হবে।’

শাস্ত্রী কোচ হিসেবে আসার অনেক আগেই জুনিয়রদের নিয়ে দ্রাবিড়ের অনুশীলন চলছে।

শাস্ত্রী কোচ হিসেবে আসার অনেক আগেই জুনিয়রদের নিয়ে দ্রাবিড়ের অনুশীলন চলছে।
ছবি: এএফপি

দ্রাবিড়ের উপস্থিতিতে ভারতীয় ক্রিকেট আরও উন্নতি করবে বলছেন রমণ, ‘রাহুল দ্রাবিড়ের উপস্থিতি এই ক্রিকেটারদের আত্মবিশ্বাস দারুণভাবে বাড়িয়ে দেবে। কারণ, সে সহজাতভাবেই খুব শান্ত প্রকৃতির এবং সে এমন একজন ব্যক্তি, যে বিশ্বাস করে, ব্যর্থতা একজন ক্রিকেটারের ক্যারিয়ারেরই অংশ। সে ছেলেদের সঙ্গে বসতে পারবে এবং নিশ্চিত করতে পারবে যে এতে ছেলেরা বিরক্ত হবে না। এই ব্যাপারটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, যখন কোনো ক্রিকেটার ভালো করে, তখন পুরো বিশ্বই তার পেছনে থাকে। যখন কোনো ক্রিকেটারের খারাপ দিন কাটাতে হয়, তাদের কথা বলার জন্য কাউকে প্রয়োজন হয়। রাহুল দ্রাবিড় এই কাজটা ভালোভাবে করতে পারে, এভাবেই খেলোয়াড়দের বাছাই করতে পারেন।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *