ওয়ানডেতে ৪ ইনিংস আগেও ফিফটি পেয়েছেন, তার আগে ছিল ৪৩ রানের আরেকটি ইনিংস। তবে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ মিলিয়ে সাকিবের ব্যাটিং ফর্ম ছিল আলোচনায়। সিরিজ শুরুর আগে তামিম ইকবাল ও নির্বাচক আবদুর রাজ্জাক বলেছিলেন, সাকিবের ‘ফর্মে’ ফেরা শুধু সময়ের ব্যাপার। সাকিব খুব বেশি সময় নিলেন না ফর্মে ফিরতে।

নিজের সেরাটা দেখালেন এমন এক দিন, যেদিন দল চাপে। যেদিন প্রয়োজন ছিল এমন একটা ইনিংসই। সাকিব বলছেন, ম্যাচের পরিস্থিতিতে এগিয়ে আসার পালা ছিল তাঁরই। তাঁর নিজের জন্যও এমন একটা ইনিংস দরকার ছিল বলেই মনে করেন তিনি।

ওপেনিংয়ে এদিন ভালো একটা শুরুর পর যখন মনে হচ্ছিল থিতু হয়েছেন তামিম ইকবাল ও লিটন দাস, তখনই ফিরে গেছেন তাঁরা। সাকিবের ওপর চাপটা বেড়েছে ধীরে ধীরে। মাহমুদউল্লাহর সঙ্গে জুটিতে বাংলাদেশ অনেকটা এগোলেও অসময়ে সাকিবকে রেখে ফিরে গেছেন তিনিও।

এরপর মেহেদী হাসান মিরাজ, আফিফ হোসেনরাও সঙ্গ দিতে পারেননি। সাকিব শেষ পর্যন্ত ম্যাচ জিতিয়ে ফিরেছেন সাইফউদ্দিনকে সঙ্গে নিয়ে।

নিজের দায়িত্বের কথা মনে করিয়ে সাকিব কৃতিত্ব দিয়েছেন সাইফউদ্দিনকেও, ‘আজ আমার দায়িত্ব নেওয়ার পালা ছিল। আমি তা করতে পেরে খুশি। তবে অনেকটা কৃতিত্ব সাইফউদ্দিনকে দিতে হয়। সে যেভাবে খেলেছে সেটা এককথায় দারুণ। সে অনেক ঠান্ডা মাথায় খেলেছে। ৭ উইকেট হারানোর পর ব্যাটিং করা সহজ ছিল না। শেষ ১০ ওভারে ৬০-৭০ রান দরকার ছিল আমাদের। আমি বেশির ভাগ কৃতিত্ব তাকেই দেব।’

উইকেট আগের দিনের শুরুর মতো কঠিন ছিল না, দেখে মনে হয়েছে সহজই। তবে এ উইকেটের আচরণ একটু আলাদা ছিল বলেই জানিয়েছেন সাকিব।

‘উইকেট আসলে একটু ভিন্ন ছিল। বল ব্যাটে আসছিল না। রান করার জন্য আপনাকে শট খেলতে হতো। ব্যাটসম্যান হিসেবে মানিয়ে নিতে হয়েছে। আমি খুশি যে যেমন মানিয়ে নেওয়া দরকার ছিল এমন উইকেটে, সেটা করতে পেরেছি। সময় নিয়েছি। নিয়মিত যেহেতু উইকেট পড়ছিল, আমি বেশি কিছু করতেও পারতাম না। কৃতিত্ব দিতে হয় সাইফউদ্দিনকে, সে যেভাবে আমার সঙ্গে থেকে খেলাটা শেষ করেছে সেটা দারুণ ছিল’ – বলেছেন সাকিব।

এ ম্যাচের আগে নিজের পরিবর্তন নিয়েও বলেছেন তিনি, ‘পরিশ্রম তো করতেই হয়। মানসিকতাটা এসব ক্ষেত্রে অনেক গুরুত্বপূর্ণ। আগের ম্যাচগুলোতে হয়তো আমি অনেক বেশি চিন্তা করছিলাম। সেটা এই ম্যাচের আগে একটু পরিবর্তন এনেছি। কিছু কিছু জিনিস ছিল যা আমাকে সহায়তা করেছে এই ম্যাচের আগে, যেন আমি মনোযোগটা রাখতে পারি। চেষ্টা করব এই মনোযোগটা যেন ধরে রাখতে পারি।’

ব্যাটিংয়ে কৌশলগত তেমন পরিবর্তন এখন আর প্রয়োজন হয় না, মনে করিয়েছেন সেটিও, ‘এত দিন খেলার পর আমি যে অবস্থানে আছি, আমার খুব একটা কৌশলগত পরিবর্তন দরকার হয় না। মানসিক সমস্যাগুলোই বেশি হয়। মানসিক খেলায় যদি আমি নিজের সঙ্গে নিজে জিততে পারি তাহলে রান করা সম্ভব।’

এমন একটা ইনিংস যে তাঁর দরকার ছিল, সাকিব মানছেন সেটি, ‘খুবই দরকার ছিল রানটা। যেহেতু দলের জয়ের জন্য খুব দরকার ছিল, তাই আমি সেদিক থেকে খুবই খুশি। কোনোটা থেকে কোনোটা কম না। সব সময়ই চেষ্টা থাকে যে ভালো করার।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *